মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারণ।
আপনার মাথার পিছনে বাম পাশে কি তীব্র ব্যাথা অনুভূত হয়? তাহলে জেনে নিন- মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারণ কি এবং কীভাবে এর থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়।
যেকোন মাথাব্যাথা একটি তীব্র যন্ত্রণাদায়ক বিষয়। বিভিন্ন কারনে মাথার বাম পাশে ব্যাথা হতে পারে। এরকম ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে হলে এবং সঠিক চিকিৎসা পেতে প্রথমেই জানতে হবে মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারণ কি। সে বিষয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।
মাথার ব্যাথা হওয়ার কারণ।
মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারণ বেশ কয়েকটি হতে পারে। যেমন-
মাইগ্রেন- মাইগ্রেন মাথাব্যথার একটি গুরুতর অবস্থা, যা মাথার এক বা উভয় দিকে প্রভাবিত হয়। এটি একটি স্নায়বিক সমস্যা। মাইগ্রেন হলে মাথার বা পাশে ব্যাথা হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে-
- আলো এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা
- বমি বমি ভাব
- বমি হওয়া
- মাইগ্রেন কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মানসিক চাপ- অতিরিক্ত টেনশন মাথাব্যথা হয় অনেক সময়। এটি একটি সাধারন মাথা ব্যাথা, যা বেশিরভাগ সময়ই মাথার বাম দিকে প্রকাশ পায়। মানসিক চাপ থেকে সৃষ্ট মাথাব্যাথা অনেকটা যন্ত্রনাদায়ক হয়, যা-
- ঘাড়
- মাথার ত্বক
- কাঁধে অনুভূত হতে পারে।
ঘুমের অভাব- ঘুম কম হলে মাথা ব্যাথা করা একটি স্বাভাবিক বিষয়। বিশেষ করে মাথার কোন এক পাশে ব্যাথা হয়। এর ফলে আরও কিছু প্রভাব পড়ে, যেমন-
- চোখ লাল হওয়া ও ব্যাথা
- চোখের নিচে মাথার দিকে ব্যাথা
- আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা।
মাথায় রক্তক্ষরণ- মাথায় কোন রক্তনালি ফেটে গেলে বা স্ট্রোক করলে মাথার নির্দিষ্ট পাশে তীব্র যন্ত্রণা হতে পারে। এর আরও কিছু লক্ষন হলো-
- সকল স্ট্রোকের লক্ষন প্রকাশ পাওয়া
- একটি নির্দিষ্ট পাশে ব্যাথা।
অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া- অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া একটি স্নায়ুবিক অবস্থা, যা মাথার খুলির গোড়ায় স্নায়ুতে ব্যথা সৃষ্টি করে। এটি মাথার পিছনের বাম দিক থেকে শুরু হয়ে কপালে এবং চোখের পিছনে প্রসারিত হয়। এর ফলে আরও কিছু প্রভাব পরে, যেমন-
- মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া
- ঘাড় নাড়াচাড়া করলে ব্যাথা
- চোখ ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা- সার্ভিকোজেনিক এক ধরনের জটিল মাথাব্যাথা যা ঘারে আঘাত থেকে সৃষ্টি হতে পারে। এটি ঘাড় থেকে উৎপন্ন হয় এবং মাথার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মাথার পিছনের বাম দিকে ব্যথা হওয়ার কারন হতে পারে। এর আরও কিছু লক্ষন হলো-
- ঘাড়ের ব্যথা।
- ঘাড়ের সীমিত নড়াচড়ায় ব্যাথা।
- নির্দিষ্ট অবস্থানে ঘাড় রাখলে ব্যাথা।
ব্রেন টিউমার ও সার্জারি- মাথার ভিতরে ব্রেন টিউমার হলে এবং তা আকারে বড় হয়ে গেলে টিউমার অবস্থানের পাশে ব্যাথা হয়। এবং বিভিন্ন সার্জারির ফলেও মাথায় দীর্ঘদিন তীব্র ব্যাথা হয়। এছাড়াও-
- ক্রমাগত ও স্থায়ী ব্যাথা
- দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
- কথা বলতে সমস্যা হতে পারে।
ক্লাস্টার মাথাব্যথা- মাথার ক্লাস্টার চক্রের মধ্যে এ জাতীয় মাথাব্যাথার সৃষ্টি হয়। এর ফলে মাথার পিছনের বাম দিকে একটি ধারালো, তীব্র ও জ্বলন্ত ব্যথা হতে পারে। এই ব্যাথা ১৫ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টাও স্থায়ী হতে পারে। এ সমস্যার আরও কিছু লক্ষন রয়েছে, যেমন-
- লাল এবং অশ্রুসিক্ত চোখ
- নাক বন্ধ হওয়া
- অস্থিরতা।
সাইনোসাইটিস- সাইনোসাইটিস হল সাইনাস গহ্বরের একটি প্রদাহ যা মাথায় ব্যথা এবং মাথায় চাপ সৃষ্টি করে। মাথার পিছনে ব্যাথার পাশাপশি এর আরও কিছু উপসর্গ রয়েছে যেমন-
- মুখের ব্যথা
- অনুনাসিক বন্ধন
- পোস্টনাসাল ড্রিপ হতে পারে।
উপরোক্ত বিষয়গুলোই হলো মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারণ।
এই আর্টিকেল গুলো পড়ুন।
- মাথার খুশকি ও চুলকানি দূর করার উপায়।
- চোখের নিচে কালো দাগ কেন হয় ও কোন রোগের লক্ষন।
- প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি করার উপায়।
মাথার পিছনে বাম পাশের ব্যাথার প্রতিকার।
মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা যদি স্থায়ী না হয় তাহলে কিছু মাথা ব্যাথার ওষুধের মাধ্যমেই তা থেকে নিরাময় পাওয়া যায়। তবে ব্যাথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে পাশাপশি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জীবনে প্রয়োগ করতে হবে-
(১) পর্যাপ্ত ঘুমঃ নিয়মিত কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। রাতে ঘুমানো বেশি কার্যকর তাই রাত জাগা যাবেনা।
(২) যোগব্যায়ামঃ যোগব্যায়াম ও ধ্যানের ফলে মাথায় চাপ কম পড়ে এবং শান্ত থাকায় মাথা ব্যাথা কমার পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাও দূর হয়।
(৩) গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসঃ গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস আমাদের ব্রেন কে রিলেক্স করে তোলে। এবং রক্তচাপ, মাথাব্যাথা দূর করে মাথার ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
(৪) মানসিক চাপ কমানোঃ যথাসম্ভব টেনশন মুক্ত থাকতে চেষ্টা করতে হবে। হাসিখুশি ও চাপমুক্ত মানুষের জীবনে রোগ ও শারীরিক সমস্যা কম হয়।
(৫) ঠান্ডা কম্প্রেসঃ আক্রান্ত স্থানে হালকা তাপের চ্যাকা বা ঠান্ডা কিছু দিয়ে কম্প্রেস করলে ব্যাথা কমে যায়।
(৬) চশমা ব্যবহারঃ চোখের সমস্যা থেকে মাথা ব্যাথা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করতে হবে।
উপরোক্ত উপায়েও যদি মাথার ব্যাথা না হ্রাস পায় তাহলে পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই আর্টিকেল গুলো পড়ুন।
- গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়।
- স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গেলে কি কি করতে হবে।
- শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত ও কত হলে জ্বর ধরা হয়।
FAQ's
মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারন কি?
মাইগ্রেন, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, ব্রেন টিউমার, স্ট্রোক, সাইনোসাইটিস, অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া ইত্যাদি কারনে মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হতে পারে।
মাথায় টিউমার হওয়ার লক্ষন কি?
মাথায় টিউমার হলে প্রাথমিকভাবে তা বুঝা যায় না। তবে টিউমার আকারে বড় হলে টিউমারের অবস্থান অনুযায়ী মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা হয়, কথা বলতে সমস্যা বা তোতলানো, চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষন দেখা দেয়।
মাথাব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি?
পর্যাপ্ত ঘুম, যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মানসিক চাপ কমানো, এলকোহল পান না করা, অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা ইত্যাদি উপায়ে মাথাব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কথা।
কোন স্থায়ী রোগ, মাইগ্রেন, মানসিক চাপ, সাইনাস, কম ঘুম ইত্যাদি কারনে মাথাব্যাথা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি মাথার বাম পাশে ব্যাথা অনুভব হয় এমন সমস্যা অনেকেরই দেখা দিচ্ছে। তাই জীবনে বড় সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারণ জেনে সঠিক চিকিৎসা করুন।
এই আলোচনায় মূল বিষয় ছিলো - মাথার পিছনে বাম পাশে ব্যাথা হওয়ার কারন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। পোস্টটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক এমন উপকারী লেখা পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট, ধন্যবাদ।